ওয়েব ডেস্ক, চোপড়া : ভোটের পরে সরগরম রাজ্য-রাজনীতি। এরই মধ্যে চোপড়ার বিজেপি প্রার্থী শংকর অধিকারী-র ভাই সুব্রত অধিকারীকে রবিবার গ্রেপ্তার করল চোপড়া থানার পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর থেকেই থানা চত্বরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ভাইকে থানায় কেনও আনা হয়েছে জানতে পেরেই সটান থানায় পৌঁছে যান শংকর অধিকারী। সেখানে খোদ আইসি কেশব বড়ালের সঙ্গে তাঁর তীব্র বচসা বাধে বলে অভিযোগ। পুলিশের দাবি, প্রকাশ্যেই আইসিকে ‘চোর-ছ্যাঁচড়’ বলেও কটাক্ষ করেন বিজেপি প্রার্থী শংকর অধিকারী। ঘটনাকে কেন্দ্র করে থানা চত্বরে ব্যাপক শোরগোল পড়ে যায়। এদিকে বিজেপি প্রার্থীর এমন কর্মকান্ডে কার্যত হতভম্ব হয়ে পড়েছেন থানার পুলিশ মহল।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, পরিস্থিতি সামাল দিতে একে একে থানার পুলিশ কর্মী ও আধিকারিকরা এগিয়ে আসেন। তর্ক-বিতর্কের মধ্যেই আইসি নিজের কোয়ার্টারের দিকে এগিয়ে গেলে শংকর অধিকারী গাড়িতে উঠে থানা ছাড়েন। থানা থেকে বেরিয়ে সদর গেট পার হওয়ার পরেও তিনি আইসির বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ তুলতে থাকেন। পুলিশ সূত্রের খবর, সুব্রত অধিকারীর বিরুদ্ধে ডাকাতি, মোটরবাইক ছিনতাই-সহ একাধিক মামলায় অভিযোগ রয়েছে। এদিন তাঁর মোবাইল ফোন ট্র্যাক করে মাঝিয়ালি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার একটি চা বাগান থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ইসলামপুর পুলিশ জেলার এসপি রাকেশ সিং বলেন, সুব্রত অধিকারী ওরফে ইসমাইলের বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি মামলা রয়েছে। শিলিগুড়ির একটি ডাকাতির মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি ছিল। ২০২৫ সালের আদালতের ওয়ারেন্ট ও বিভিন্ন মামলার সূত্র ধরে তাকে গ্রেফতার করা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, বিজেপি প্রার্থী শংকর অধিকারী পাল্টা অভিযোগ করেন, “চোপড়া থানার আইসি কেশব বড়াল বিক্রি হয়ে গিয়েছে। আজ সাধারণ মানুষ ও আমার ভাইয়ের উপর গুলি চালানো হয়েছে। এলাকায় অশান্তি ছড়ানো হচ্ছে। বিজেপি কর্মীদের পরিকল্পিতভাবে হয়রানি করছে পুলিশ। প্রশাসন একতরফাভাবে কাজ করছে।” এই ঘটনায় এলাকার বিধায়ক হামিদুল রহমান জানিয়েছেন, “ওর ভাইয়ের বিরুদ্ধে বহু মামলা রয়েছে। পুলিশ তাদের কাজ করেছে।”
