তৃণমূল আমলে 'খুন' বিজেপি নেতার, ফের তদন্তের দাবি

0
BJP leader 'murdered' during Trinamool era, demands further investigation


ওয়েব ডেস্ক, কাঁকসা : দলের বৈঠক শেষে বাড়ি  ফেরার পথে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের গুলিতে ‘খুন’ হয়েছিলেন বিজেপির বুথ সভাপতি সন্দীপ ঘোষ। গুলিতে ঝাঁজরা হয়ে গিয়েছিলেন সন্দীপবাবু। ওই ঘটনার সেভাবে কোনও তদন্তই হয়নি বলে অভিযোগ পরিবার-সহ বিজেপি কর্মীদের। রাজ্যে পালাবদলের পর বিজেপি সরকার এসেছে। এবার দুর্গাপুরের কাঁকসার সেই খুনের ঘটনার সিবিআই তদন্তের দাবি তুলছেন পরিবারের সদস্যরা। শুভেন্দু অধিকারীর সরকার সেই খুনে দোষীদের যোগ্য সাজা দেবেন, তেমনই আশা করছেন সন্দীপের বাবা বিজয় ঘোষ-সহ পরিবারের সদস্যরা। বাংলায় বিজেপি সরকার গঠন করতেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী শহিদদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, তদন্ত আবার হবে। দোষীরা কেউ ছাড়া পাবে না। এরপরই বুকে বল পেয়েছে সন্দীপের পরিবার। ছেলের খুনের অপরাধীরা শাস্তি এবার পাবে, এমনই আশা বুকে বেঁধেছেন বৃদ্ধ বাবা বিজয় ঘোষ। 


উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ৯ ডিসেম্বর পশ্চিম বর্ধমানের কাঁকসার জঙ্গলমহল এলাকায় এই ঘটতি ঘটেছিল। পরিবার ও স্থানীয়দের থেকে জানা গিয়েছে, দলের বৈঠক সেরে বাইকে করে বাড়ি ফেরার পথে সরস্বতীগঞ্জ গ্রাম সংলগ্ন এলাকায় হামলার মুখে পড়েন সন্দীপ ও তাঁর সঙ্গীরা। তৃণমূল আশ্রিত প্রায় ৪০ জন দুষ্কৃতী রাস্তা আটকে লাঠি, রড ও আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছিল সন্দীপের উপর! পালানোর চেষ্টা করলে সন্দীপকে গুলিতে ঝাঁজরা করে দেওয়া হয়েছিল। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। সেই ঘটনায় আহত হন বিজেপি কর্মী জয়দীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ও। সেদিন তন্ময় কর নামে এক বিজেপি কর্মীর বাইকের পিছনে বসেছিলেন সন্দীপ। সেই ঘটনা মনে করলে এখনও কেঁপে ওঠেন স্থানীয়রা। সূত্রের খবর, পুলিশি তদন্তে কয়েকজন গ্রেপ্তার হয়েছিল। আদালতে মামলাও শুরু হয়। এখন প্রত্যেকেই জামিনে মুক্ত।


সন্দীপ ঘোষের মৃত্যুর পর উত্তপ্ত হয়ে ওঠে কাঁকসা ও রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত। অভিযোগ, তৃণমূল সরকারের আমলে পুলিশ সেভাবে কোনও তদন্ত করেনি। তৎকালীন রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ, বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়রা গিয়েছিলেন দুর্গাপুরে। তাঁরা বলেছিলেন, যেদিন বিজেপির ক্ষমতায় আসবে, সেদিন আবার ফাইল খোলা হবে। পার পাবে না সন্দীপ ঘোষের হত্যাকারীরা। এবার সেই বিষয়েই দিন গুনছেন সন্দীপের পরিবার। ওই ঘটনার পর এলাকায় সন্দীপের মূর্তিও বসেছে। 


তন্ময় করের দাবি, “আমার বাইকে সন্দীপ চেপেছিল। ৬জন মিলে ৩টি বাইকে করে ফিরছিলাম। তখনই দুষ্কৃতীরা গুলি করে। সন্দীপের বুকে গুলি লাগে। আমার বাইক থেকে পড়ে যায়। হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত্যু হয়। ওই ঘটনায় দ্রুত শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

About Us

'শহর রায়গঞ্জ' পোর্টাল নিউজ চ্যানেলে আপনারা প্রতিনিয়ত সব ধরণের খবর পাবেন