ওয়েব ডেস্ক, রায়গঞ্জ : পশ্চিমবঙ্গের সিংহাসনের যুদ্ধে জয়ী বিজেপি। জয়ের পরেই রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা থেকে উঠে এসেছে একরাশ তৃণমূলের দুর্নীতির অভিযোগ। আর এই অভিযোগের পরেই সরগরম রাজ্যরাজনীতি। তৃণমূল ৮০টি আসন পেলেও বিজেপির সরকার গঠন হওয়াতে স্বস্থির নিঃস্বাস নিচ্ছেন সাধারণ মানুষ, এমনটাই কথা উঠেছে চায়ের পেয়ালায়। তৃণমূল হেরে যাওয়ার পরেই শুরু হয়েছে একে একে তদন্ত। গত ১১ মে গ্রেপ্তার হয়েছেন প্রাক্তন দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু। এই ঘটনার পরেই উত্তর দিনাজপুরের সাধারণ মানুষ চাইছেন রায়গঞ্জের দুর্নীতির বিরুদ্ধে তদন্ত করুক পুলিশ। কারণ রায়গঞ্জেও দুর্নীতি খুব একটা কম হয়নি। রায়গঞ্জ থেকেই উঠে এসেছিলো অবৈধ তোলাবাজি, অবৈধ পুকুর ভরাট থেকে শুরু করে ব্যবসায়ীদের দোকান ঘর জবর দখলের অভিযোগ। এই সব অভিযোগ উঠেছিল তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে।
গত ২০২৪ সালে রায়গঞ্জ শহরের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের বীরনগরে ট্রলি ট্রলি মাটি ফেলার অভিযোগ উঠেছিল। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছিলেন, ২১ নম্বর ওয়ার্ডের কোঅর্ডিনেটর কল্পিতা মজুমদার বিষয়টি জেনেও সরব হননি। তবে পাল্টা কোঅর্ডিনেটর কল্পিতা মজুমদার জানিয়েছিলেন, ‘আমার ওয়ার্ডের পুকুর ভরাটের ব্যাপারে প্রথমে আমি কিছুই জানতাম না। যখন জানতে পারলাম, ওখানে মাটি ফেলা হচ্ছে তখন ওই পুকুরের মালিককে ফোন করে ভরাট বন্ধ করতে বলি। কোনও অনুমতিপত্র নেওয়া হয়েছে কিনা, জানতে চাই। ওই পুকুরের জল ড্রেন দিয়ে বাইরে বের করে দিয়ে মাটি ফেলছিল। আমি নিষেধ করা সত্ত্বেও তারা মাটি ফেলছে। বেআইনি কাজ হচ্ছে।’ এই ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছিল, স্থানীয় কো-অর্ডিনেটরের কথায় কি পুকুর ভরাট বন্ধ হয়েছিল?
অন্যদিকে, ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে রায়গঞ্জের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের দেবীনগরে দোকান খালি করাকে কেন্দ্র করে বাধে বিরোধ। এক ব্যবসায়ীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছিল রায়গঞ্জ পুরসভার ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কো-অর্ডিনেটর অভিজিৎ সাহা এবং তাঁর স্ত্রী সুনীতা ও ছেলে বাপন সহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে। সেই মারধরের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরালও হয়েছিল (যদিও ভিডিও’র সত্যতা যাচাই করেনি 'শহর রায়গঞ্জ')। ঘটনাটি ঘটেছিল রায়গঞ্জের দেবীনগর পোস্ট অফিস মোড় এলাকায়। সূত্রের খবর, একটি দোকান ঘর খালি করাকে কেন্দ্র করে অভিজিৎ সাহার সঙ্গে ব্যবসায়ী সমীর দেবনাথের বিরোধ চলেছিল। সমীরবাবু দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে একটি দোকান ভাড়া নিয়ে ইলেকট্রিক সরঞ্জামের ব্যবসা করে আসছেন। অভিজিৎবাবু ওই এলাকায় মার্কেট তৈরি করবেন বলে ভাড়া ছেড়ে দিতে বলেন। কিন্তু সমীরবাবুর দাবি, তিনি দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে ব্যবসা করছেন। তাই মালিকের থেকে দোকান তিনি কিনবেন। অভিযোগ ওঠে, অভিজিৎ সাহা তাঁর দোকানে গিয়ে দোকান ছেড়ে দেওয়ার জন্য হুমকি দেন। কিন্তু সমীরবাবু তার প্রতিবাদ করতে তাঁকে মারধর করা হয়। এমনকি খুনের হুমকি দেওয়া হয়। পাঁচজন মিলে তাঁকে এবং সমীরবাবুর স্ত্রীকে মারধরের পাশাপাশি শ্লীলতাহানিও করা হয় বলেও অভিযোগ। এই অভিযোগের ভিত্তিতে পাল্টা অভিজিৎবাবু বলেছিলেন, ‘ওই পরিবার বিজেপি করে। তাই মিথ্যা অভিযোগ এনে বাজার গরম করতে চাইছে।’ ঘটনার পরে থানায় অভিযোগ দায়ের করার পাশাপাশি বিচারের আশায় এখনও দেবনাথ দম্পতি।
পাশাপাশি, রায়গঞ্জের বাসস্ট্যান্ডে তোলাবাজির অভিযোগ ছিল দীর্ঘদিনের। গত ১০ মে, রবিবার অবৈধ টাকা তোলার অভিযোগে সরব হয়েছেন অটো চালকেরা। তাদের অভিযোগ,সারাদিন গাড়ি চালিয়ে বাসস্ট্যান্ডে এসে তোলাবাজিদের হাতে কিছু টাকা দিতে হতো। যার কারণে সংসার চালাতে হিমশিম খেতেন অটো চালকেরা। অটো চালকেরা জানিয়েছেন, সরকার বদলেছে। এবার এই তোলাবাজি বন্ধ হোক। বৈধ কাগজ ছাড়া তারা কাউকে এক টাকাও দিবেন না বলেই জানিয়েছেন।
এমন সব ঘটনায় সরগরম হয়েছে রাজ্যরাজনীতি। রাজনৈতিক মহলের একাংশ জানিয়েছেন, সরকার যেই থাকুক। দুর্নীতিগ্রস্ত মানুষেরা কোনওদিন সঠিক পথে চলবে না। তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। রায়গঞ্জবাসীর একাংশের দাবি, অবৈধ কাজকর্ম রুখতে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করুক প্রশাসন।
