শহর রায়গঞ্জ ওয়েব ডেস্ক : বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়ে চরম তৎপর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রশাসনের অন্দরে লুকিয়ে থাকা দুর্নীতিগ্রস্ত আধিকারিকদের দিন এবার শেষ। ১৩ মে, বুধবার তিনি সাফ জানিয়ে দেন, এখন থেকে দুর্নীতিতে অভিযুক্ত সরকারি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করতে আর রাজ্য সরকারের আলাদা অনুমতির জন্য অপেক্ষা করতে হবে না সিবিআই-কে।
শুভেন্দু অধিকারী আরও জানান, বিগত সরকার দুর্নীতির একাধিক তদন্তের কাজ সুকৌশলে আটকে রেখেছিল। নিয়ম অনুযায়ী, আদালতের নির্দেশে তদন্তকারী সংস্থা কোনও সরকারি আধিকারিকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে চাইলে রাজ্যের অনুমোদনের প্রয়োজন হতো। সেই সুযোগ নিয়ে গত চার বছর ধরে সিবিআই-এর চারটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার অনুমোদন ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। এদিন সেই সমস্ত ফাইল থেকে জট সরিয়ে কেন্দ্রীয় সংস্থাকে অবাধ তদন্তের সবুজ সংকেত দিয়ে দিল নতুন সরকার। তিলজলার সাম্প্রতিক অপ্রীতিকর ঘটনার প্রেক্ষিতেও কড়া অবস্থান নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে অবৈধ কারখানার মালিকদের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থাকে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, অবৈধ কারখানার বিদ্যুৎ সংযোগ স্থায়ীভাবে বিচ্ছিন্ন করতে হবে। শুধু তাই নয়, অভ্যন্তরীণ অডিট চালিয়ে চিহ্নিত করতে হবে এই ধরনের সমস্ত কেন্দ্রকে এবং একদিনের মধ্যে সেই অবৈধ কাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
নির্বাচনী প্রচার থেকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন লড়াইয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বর্তমান শাসকদল। এদিন সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন ঘটিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, “উৎপাদনের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতির কথা বারবার বলেছিলাম। এখন সেই কাজটাই করছি।” এহেন সিদ্ধান্তের ফলে পুলিশ ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিভিন্ন মহলের অনুমান, এর ফলে আগামীদিনে প্রশাসনের উচ্চপদে থাকা অনেক প্রভাবশালী আধিকারিকের কপালে অশেষ দুঃখ আছে। সরকারের এই সাহসী পদক্ষেপকে সাধারণ মানুষ স্বাগত জানালেও, আমলা মহলে এখন চাপা উদ্বেগ। সিবিআই-এর হাতে অবাধ ক্ষমতা আসায় কোন কোন বড় মাথার নাম সামনে আসবে, সেটাই দেখার।
