ওয়েব ডেস্ক, রায়গঞ্জ : এবার একাধিক অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন তৃণমূলের ছাত্র পরিষদের উত্তর দিনাজপুর জেলা সভাপতি রন্তু দাস। তোলাবাজি, বাড়ি দখল, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র রাখার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগে অবশেষে গ্রেপ্তার হলেন তিনি। ১৬ মে অর্থাৎ শনিবার তাঁকে গ্রেপ্তার করে রায়গঞ্জ থানার পুলিশ। ধৃত রন্তু দাসের বাড়ি রায়গঞ্জ শহরের মিলনপাড়া এলাকায় এবং তিনি স্থানীয় একটি ক্লাবের কর্মকর্তা হিসেবেও পরিচিত। পুলিশের এই পদক্ষেপের পর রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, রায়গঞ্জ শহরের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাশিবাটি সংলগ্ন এলাকায় কয়েক বিঘা জমি বেআইনিভাবে দখল করে তা বিক্রি করার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আয় করার অভিযোগ রয়েছে রন্তুর বিরুদ্ধে। এর পাশাপাশি শহরের একাধিক বাসিন্দাকে ভয় দেখিয়ে বাড়ি ও সম্পত্তি দখলেরও অভিযোগ রয়েছে তাঁর নামে। পুলিশের গোয়েন্দা সূত্রের খবর, ধৃত যুব নেতার কাছে একাধিক অত্যাধুনিক বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্রও মজুত রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এলাকায় একাধিক অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও শাসকদলের বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যাণী এবং তৃণমূলের জেলা সভাপতি কানাইয়ালাল আগরওয়ালের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হওয়ার কারণে এতদিন তাঁর বিরুদ্ধে কেউ মুখ খোলার সাহস পাননি। এমনকি তৎকালীন পুলিশ আইসি বিশ্বশ্রয় সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা থাকায়, ভুক্তভোগীরা থানায় অভিযোগ জানাতে এলে উল্টে তাঁদেরই হেনস্থা করা হতো বলে অভিযোগ। বর্তমানে অভিযুক্তকে রায়গঞ্জ থানায় রাখা হয়েছে। জেলা পুলিশের এক উচ্চপদস্থ কর্তা জানান, “ধৃতকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। বিশেষ করে তার কাছে কোনো অবৈধ ও অত্যাধুনিক অস্ত্র রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
শনিবার রায়গঞ্জ থানায় নিয়ে আসা হলে ধৃত রন্তু দাস দাবি করেন, রাজনৈতিক কারণে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি এই গ্রেপ্তারি বিষয় কিছুই বুঝতে পারছেন না।
রন্তু দাসের গ্রেপ্তারির পর তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ করেছেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথা প্রাক্তন সাংসদ দিলীপ ঘোষ। অন্যদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রায়গঞ্জ শহরের একাধিক বাসিন্দার দাবি, “যে সমস্ত তৃণমূল নেতা ও কাউন্সিলরদের একসময় নুন আনতে পান্তা ফুরোতো, তারা এখন আঙুল ফুলে কলাগাছ। কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি ও বিলাসবহুল গাড়ি চড়ে ঘুরছেন। পুলিশ এদের গ্রেফতার করার পাশাপাশি ইডি-র মাধ্যমে এই হিসাব বহির্ভূত সম্পত্তির তদন্ত করুক।”
