ওয়েব ডেস্ক, চোপড়া : বারংবার বালি মাফিয়াদের দৌরাত্ম নিয়ে অভিযোগ উঠে আসছিলো উত্তর দিনাজপুরের চোপড়া থেকে। সেই সব নদীর ঘাটে পুলিশ থেকে ভূমি দপ্তরের আধিকারিকদের ঢোকার অনুমতি ছিল না, সেখানে এখন নিস্তব্ধতা। ইসলামপুর মহকুমা ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর সূত্রের খবর, গত কয়েকদিন ধরে নিয়মিত অভিযান চলছে। মাত্র একদিনে প্রায় ১০ লক্ষ সিএফটি উত্তোলন করে রাখা বালি বাজেয়াপ্ত করেছে প্রশাসন সূত্রের এমনটাই খবর।
চোপড়া থানায় নদীর বেআইনি ঘাট নিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মহকুমা আধিকারিক সুশান্ত মজুমদার। এই প্রসঙ্গে চোপড়ার বিধায়ক হামিদুল রহমানের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও সম্ভব হয়নি। ইসলামপুরের পুলিশ সুপার রাকেশ সিং কড়া অবস্থানের আশ্বাস দিচ্ছেন। এই কারবারের নিয়ন্ত্রণের রাশ ছিল কলকাতার ‘দাদা’র হাতে। সঙ্গে চোপড়ায় যাঁর নামে বাঘে-গোরুতে একঘাটে জল খেত, তৃণমূল কংগ্রেসের সেই নেতার আশীর্বাদ। পুরোনো শাসক দলের ছত্রছায়ায় বালির সাম্রাজ্যের বহর বেড়েছিল চোখে পড়ার মতো। পুলিশের উঁচুতলার একাংশের সঙ্গে হাত মিলিয়ে অবৈধ বালিঘাট থেকে গত একদশকে কয়েকশো কোটি টাকার ব্যবসা করেছে বালি মাফিয়ারা বলে এমনটাই অভিযোগ। কিন্তু রাজ্যে পালাবদল হওয়ার পর রাতারাতি গা-ঢাকা দিয়েছে এই সব বালি ঘাটের সাম্রাজ্যের মাথা। ঘটে নেই আর্থমুভার ও ডাম্পারও। উধাও 'দাদা'-রা। কোটি কোটি টাকা বখরা খাওয়া রাজনৈতিক ‘দাদা’ও নিজেকে ঘরবন্দি করে ফেলেছেন। এতে বিপাকে গত কয়েকবছরে এলাকায় দাপিয়ে বেড়ানো একদল তরুণ। এখন তাদের গতি কি? এবার কার আশ্রয় নেবেন? উঠেছে প্রশ্ন।
কিছুদিন আগেও ইসলামপুর মহকুমাজুড়ে বালি ও মাটি মাফিয়াদের দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো। মৃতপ্রায় নদীও রক্ষা পায়নি। ফলে ট্র্যাক্টর এবং আর্থমুভারের ব্যবসাও জমে উঠেছিল। তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের আঙুল রাতারাতি ফুলে উঠেছিল। কিন্তু সরকার বদলের পর থেকে সকলেই কার্যত 'অদৃশ্য'। আরও জানা গেছে, চোপড়ার মহানন্দা পারের চিতলঘাটা এলাকা কুখ্যাত হয়ে উঠেছিল। পুরো চোপড়ায় মাত্র তিনটি বৈধ ঘাট ছিল। কিন্তু যত্রতত্র বালির বেআইনি ঘাটের দৌরাত্ম্যে বৈধভাবে ব্যবসা করা অনেকেই ব্যবসা করতে পারছিলেন না। দিনের আলোয় পুলিশের চোখের সামনে দিয়ে রোজ শয়ে-শয়ে ডাম্পার চলত জাতীয় সড়ক দিয়ে। কেউ আটকে বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে পারতেন না। কারণ এই সাম্রাজ্য নিয়ে বেশি মাথা ঘামালে বা প্রতিবাদ করলে স্থানীয় ‘দাদা’-দের হাতে শিকার হওয়ার ভয়ও ছিল বলেও অভিযোগ একাংশের।
