ওয়েব ডেস্ক, রায়গঞ্জ : রায়গঞ্জের ত্রাস হিসেবে পরিচিত কুখ্যাত দুষ্কৃতী মহাদেব দাস। অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়লো কুখ্যাত দুষ্কৃতী। চোর সন্দেহে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে ও নদীতে চুবিয়ে খুন করার অভিযোগে মঙ্গলবার ভোরে শক্তিনগর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছে রায়গঞ্জ থানার পুলিশ। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৫ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। এদিন তাকে রায়গঞ্জ মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তোলা হলে বিচারক তিন দিনের পুলিশি হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, রায়গঞ্জের লোহা কালীবাড়ি এলাকায় চুরির অপবাদ দিয়ে রবি পাসমান নামে এক ব্যক্তিকে নৃশংসভাবে মারধর ও কুলিক নদীতে চুবিয়ে খুন করার অভিযোগ ওঠে। পাশাপাশি রক্ষা পায়নি তাঁর ১১ বছরের নাবালিকা কন্যাও। তাকেও কাঠের বাটাম দিয়ে পিটিয়ে জখম করা হয় বলে অভিযোগ। মৃতের শাশুড়ি শান্তি চৌধুরীর অভিযোগ, রবি পাসমানের বাড়ি দখল করার উদ্দেশ্যেই স্থানীয় একটি ক্লাবের দুষ্কৃতীরা এই ষড়যন্ত্র করেছিল। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ মূল অভিযুক্ত মহাদেবকে চিহ্নিত করে। তারপরেই মঙ্গলবার গ্রেপ্তার হয় মহাদেব।
মহাদেব দাসের অপরাধের তালিকা শিউরে ওঠার মতো। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, রায়গঞ্জের দুই সাংবাদিককে খুনের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ২০১৩ সালে উত্তর দিনাজপুর প্রেসক্লাবের তৎকালীন সভাপতি বাবু বর্ধন খুনেও সে ছিল মূল অভিযুক্ত। এক ব্যবসায়ীর খুনের ঘটনায় নাম জড়ায় মহাদেবের। অত্যাধুনিক অস্ত্র রাখা এবং ফল ব্যবসায়ীকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিল সে। শহরে একটি বাড়িতে ঢুকে অলংকার লুঠের অভিযোগ ছিল। অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন শাসকদলের ছত্রছায়ায় থাকার কারণেই এতদিন পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে সাহস পায়নি। তবে এবার আর শেষ রক্ষা হল না।
আরও পড়ুন : ভাই দেখলো দিদির ঝুলন্ত দেহ! কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা
মহাদেব দাসের গ্রেপ্তারি প্রসঙ্গে রায়গঞ্জ মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সরকারি আইনজীবী নীলাদ্রি সরকার জানিয়েছেন, “ধৃতের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ সহ একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ। বিচারক তদন্তের স্বার্থে তিন দিনের পুলিশি হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।”
পাশাপাশি রায়গঞ্জ পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার ডাঃ সোনাওয়ানে কুলদীপ সুরেশ বলেন, “খুনের অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।"
