মা'কে মেরে মেঝের নিচে পুঁতে দিল ছেলে!

0
Son kills mother and buries her under the floor!



ওয়েব ডেস্ক, দক্ষিণ ২৪ পরগনা : নিজের মা'কে মেরে রান্নাঘরের মেঝের নিচে পুঁতে দিল ছেলে।  এমন ঘটনায় উত্তেজনা এলাকাজুড়ে। ঘটনাটি দক্ষিণ ২৪ পরগনার লেদার কমপ্লেক্স থানার তারদহ নস্কর আইট গ্রামে। এমন বীভৎস এবং রহস্যময় ঘটনার সাক্ষী থাকলো গোটা এলাকা। জন্মদাত্রী মাকে খুন করে বাড়ির রান্নাঘরের মেঝের নিচে পুঁতে রাখার অভিযোগ উঠল ছেলের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত যুবকের নাম বাপন মন্ডল। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই এলাকারই বাসিন্দা মনিকা মন্ডলকে গত বেশ কিছুদিন ধরে গ্রামের কোথাও দেখতে পাননি এলাকাবাসী। পাড়া-প্রতিবেশীদের সন্দেহ হওয়ায় তাঁরা ছেলে বাপন মন্ডলকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। শুরুতে বাপন দাবি করে যে, তাঁর মা ভীষণ অসুস্থ এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। কিন্তু কয়েক দিন পর যখন প্রতিবেশীরা আবার জিজ্ঞাসা করেন, তখন সে ভোল বদলে দাবি করে যে তার মা হাসপাতালে মারা গিয়েছেন। ছেলে বাপনের এই অসংলগ্ন কথাবার্তায় সন্দেহ আরও গভীর হয় স্থানীয়দের। কয়েক জন উৎসাহী গ্রামবাসী স্থানীয় হাসপাতালে গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, সেখানে মনিকা মন্ডল নামে কোনও রোগী ভর্তি হননি এবং ওই নামে কোনও মহিলার মৃত্যুও সেখানে নথিভুক্ত নেই। মিথ্যা ধরা পড়ে যাওয়ায় এলাকাবাসীরা বাপনকে আটকে রেখে জেরা করতে শুরু করেন স্থানীয়রা। চাপের মুখে পড়ে শেষমেশ সে স্বীকার করে, তার মায়ের মৃতদেহ বাড়ির রান্নাঘরের মাটির নিচে পুঁতে রেখেছে সে।


ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই লেদার কমপ্লেক্স থানার বিশাল পুলসিঃ বাহিনী এলাকায় পৌঁছয়। দ্রুত বাড়িটি ঘিরে ফেলে পুলিশ। আইনি জটিলতা কাটিয়ে অবশেষে ঘটনার ছয় দিন পর আদালতের উপস্থিতিতে এবং ভিডিয়োগ্রাফির মাধ্যমে রান্নাঘরের মাটি খুঁড়ে পচন ধরা মৃতদেহটি উদ্ধার করা হয়। দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ।


পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত বাপন মন্ডল দাবি করে, তার মা দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন এবং স্বাভাবিকভাবেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু কেন সে কাউকে না জানিয়ে দেহ পুঁতে রাখল? এই প্রশ্নের উত্তরে বাপন জানিয়েছে, চরম আর্থিক অনটন বা দারিদ্র্যের কারণে শ্মশানে নিয়ে গিয়ে সৎকার করার সামর্থ্য তার ছিল না। সেই নিরুপায় হয়েই সে বাড়ির ভেতর দেহ পুঁতে রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে পুলিশের প্রাথমিক সন্দেহ, শুধু টাকা পয়সার অভাবে নয়, এই ঘটনার পিছনে রয়েছে অন্য কারণ। যদি মৃত্যু স্বাভাবিক হত, তবে প্রতিবেশীদের কাছে মিথ্যা বলার প্রয়োজন ছিল না। এর পেছনে অন্য কোনও রহস্য বা পারিবারিক বিবাদ লুকিয়ে আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।


স্থানীয়দের কথায়, বাপন মন্ডল বরাবরই অন্তর্মুখী স্বভাবের ছিল। সে খুব একটা কারও সঙ্গে মেলামেশা করত না এবং সব সময় নিজেকে গুটিয়ে রাখত। কিন্তু নিজের মায়ের দেহ নিয়ে টানা ছয় দিন সে কীভাবে একই বাড়িতে বসবাস করল, তা ভেবেই শিউরে উঠছেন স্থানীয়রা।


বর্তমানে অভিযুক্ত বাপন মন্ডলকে পুলিসের কড়া নজরদারিতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হচ্ছে। ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট হাতে এলেই স্পষ্ট হবে যে মনিকা মন্ডলের মৃত্যু স্বাভাবিক ছিল নাকি তাঁকে শ্বাসরোধ বা অন্য কোনওভাবে হত্যা করা হয়েছে।

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

About Us

'শহর রায়গঞ্জ' পোর্টাল নিউজ চ্যানেলে আপনারা প্রতিনিয়ত সব ধরণের খবর পাবেন